Home আজকের মিল্লাত দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

A+A-
Reset

শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান তিনি। সেখানে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করছেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর।

এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বিমানযোগে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সড়কপথে বাসযোগে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে সিটি করপোরেশন। নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও সড়ক বিভাজক পরিষ্কার করে রং করা হয়েছে। বিভাজকগুলোতে লাগানো হচ্ছে ছোট ছোট ফুলের গাছ। প্রধান সড়কের ফুটপাতও দখলমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব কমিটি, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বড় বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কগুলোতে সংস্কারকাজও করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কাজ তদারকি করছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।

ভাওয়াইয়া গানের জন্য বিখ্যাত রংপুরে প্রধানমন্ত্রীকে গানে গানে বরণ এবং সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) মহানগর ও জেলা পর্যায়ের শিল্পীরা। প্রস্তুতি নিয়েছে সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদও।

এ ছাড়া রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, জিয়া সংসদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

রাজধানীর বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্যোগকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ সফর রংপুরে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

আনন্দময়ী সেবাশ্রম মন্দিরের পূজামণ্ডপে কথা হয় সুবাস চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমরা তো এর আগে কখনো দেখিনি প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এবার সেটা হতে যাচ্ছে। তাও আবার রংপুরে, এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া। আমরা ভীষণ আনন্দিত।”

শ্রী শ্রী কালীবাড়ী মন্দিরে দুর্গোৎসবে আসা জীবন ঘোষ বলেন, “আমরা যেটা ভাবিনি, প্রধানমন্ত্রী সেটা করতে যাচ্ছেন। তিনি রংপুরে আসবেন, আমাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন, মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন—এটা নিশ্চয়ই আনন্দের। তাঁকে কাছ থেকে দেখার জন্য আমার মতো অনেকেই অপেক্ষা করছেন। আমরা চাই, তাঁর এই সফর সফল হোক, আনন্দ ও সম্প্রীতির হোক।”

রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি পার্থ বোস বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের একটি মন্দিরে আসছেন, এতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কীভাবে শারদীয় উৎসব পালন করা হয়, তা প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে দেখবেন এবং ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন—এটি তাঁদের জন্য পরম পাওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৫১ বিজিবির অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। তাঁর সফর ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শারদীয় উৎসবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে এসেছেন, এতে তাঁরাও আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। পাশাপাশি জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে আরও ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা