ফারুক আহমদ,(স্টাফ রিপোর্টার):
গাজীপুরের কাশিমপুরে বিয়ের নামে এক গৃহবধূকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা যৌতুক আদায় এবং পরবর্তীতে মৌখিকভাবে তাড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কাজী না হয়েও ভুয়া ভলিউম ও নোটারী পাবলিকের এফিডেভিট ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চক্র পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ ফুলি আক্তার (৪০) বাদী হয়ে স্বামী মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং প্রতারক চক্রের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আবেদীনের সাথে ফুলি আক্তারের বিবাহের কথা বার্তা শুরু হলে নিজেকে কাজীর সহকারী দাবি করা মোঃ আবু হানিফ ও তার সহযোগী আইয়ুব আলী বিবাহ নিবন্ধনের দায়িত্ব নেয়। অভিযোগ মতে, তারা বিগত ১৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রথমে কাবিনের কথা বলে নগদ ৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেবল নোটারী পাবলিকের একটি কোর্ট এফিডেভিট করিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে এফিডেভিটের কোনো আইনি মূল্য না থাকায় স্বজনদের চাপের মুখে আসামি চক্রটি গত ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সারদাগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় নকল রেজিস্টার/ভলিউম খাতা খুলে বিবাহ সম্পাদন ও ৩ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে স্বজনদের উপস্থিতিতে টিপসই গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি সার্টিফাইড কপি (কাবিননামা) চাইতে গেলে চক্রটি অতিরিক্ত টাকা দাবি করতে থাকে এবং ঘোরাতে থাকে। পরে আসল কাজীর কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত নামে সরকারি খাতায় কোনো বিবাহ রেজিস্ট্রিই করা হয়নি।
ভুক্তভোগী ফুলি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী জয়নাল আবেদীন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে আদায় করে। সম্প্রতি আরও যৌতুক দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় জয়নাল আবেদীন বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই জেনে তাকে মৌখিকভাবে তালাকের হুমকি দিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের প্রতারণার ফোন রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ প্রমান হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।