স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, তিন দিনের শোক ঘোষণা

স্পেনে একই রেলপথে চলাচলরত একটি দ্রুতগতির ট্রেন পেছন থেকে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রেনকে ধাক্কা দিলে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রাষ্ট্রায়ত্ত রেল সংস্থা রেনফে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর দুটি দ্রুতগতির ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। বুধবার সকালে উরদার কাছে ইরিওর ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে রেনফের ট্রেনটি সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

চলতি বছরে এটি স্পেনে দ্বিতীয় বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘আজ পুরো স্পেন শোকাহত।’

সামনে সাধারণ নির্বাচন থাকায় এ দুর্ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদামুজ শহরের কাছে একই ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে সানচেজ বলেন, স্পেনের মতো একটি দেশে একই বছরে দুটি বড় দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। রেল নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হলে সরকার তা করবে।

দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, প্রায় ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের একটি অংশে সিগন্যালিং কম্পিউটারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ম্যানুয়ালি ট্রেন চলাচল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণকক্ষের অপারেটররাই এমন পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা তাঁর দৃষ্টিতে ব্যাখ্যাতীত।

পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্পষ্টতই এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।’ তাঁর ভাষ্য, ত্রুটি যাচাই ও সংশোধনের জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষের পর্যাপ্ত সময় ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। তবে তিনি কারও ওপর সরাসরি দায় চাপাচ্ছেন না বলে উল্লেখ করেন।

অস্কার পুয়েন্তে জানান, অন্য একটি ট্রেনের চালক নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশ সংশোধন করে ট্রেনটির গতি কমিয়ে এনেছিলেন। ওই চালক জানিয়েছিলেন, স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় শুরু করার আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন। পরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সেই নির্দেশ মেনে নেওয়া হয়।

কাস্তিয়া-লা মানচা আঞ্চলিক সরকারের তথ্যমতে, দুর্ঘটনায় আহত ১০৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আঞ্চলিক নেতা এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বগিগুলোর নিচে এখনো পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দুর্ঘটনার পর স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কোপা দেল রের নির্ধারিত ২৪টি ম্যাচ স্থগিত করেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ বছর বয়সী সিভিল গার্ড সদস্য হোসে ম্যানুয়েল চাকনও রয়েছেন।

এদিকে বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইজো দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্পেনের অবকাঠামোর সঙ্গে কী ঘটছে, তা জানার অধিকার দেশটির জনগণের রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Related posts

শিক্ষায় বিনিয়োগ ও সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবিতে জার্মানিতে জেন জি বিক্ষোভ

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৯০

সাইবার হামলায় চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ পূরণ করল বাইন্যান্স