সাইবার হামলায় চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ পূরণ করল বাইন্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাইবার হামলায় চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ব্যবহার করে নতুন টোকেন কিনে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ পূরণেও কাজ চলছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এই সাইবার হামলার জন্য ‘ট্রেডারট্রেটর’ নামের একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায়ও অভিযুক্ত হয়েছিল।

এফবিআইয়ের আশঙ্কা, চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদগুলো ধাপে ধাপে বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করা হতে পারে। এ কারণে সন্দেহভাজন ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীদের এসব ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত লেনদেন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানায়, স্বল্প তারল্যের কিছু টোকেনের কারণে অবশিষ্ট অর্থের সমপরিমাণ সম্পদ কিনতে আরও সময় লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সব টোকেনের বিপরীতে পূরণ করা সম্পদের পরিমাণ ১০০ শতাংশে না পৌঁছানো পর্যন্ত কেনাকাটা অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার আর্থিক দায় বাইন্যান্স বহন করবে, গ্রাহকদের নয়।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, টোকেন কেনার জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ছিল গ্রাহকদের সুরক্ষায় গঠিত এক বিলিয়ন ডলারের সেকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজার্স (সাফু), ফিউচার্স ইন্স্যুরেন্স ফান্ড এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব করপোরেট তহবিল।

সাইবার হামলার পর সাময়িকভাবে লেনদেন ও উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও রোববার থেকে উত্তোলন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি গ্রাহকদের নিজেদের সম্পদের অবস্থা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে নতুন একটি প্রুফ-অফ-রিজার্ভ স্ন্যাপশটও প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং হামলাটিকে ‘ভয়াবহ আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাক হওয়া একটি ল্যাপটপ ও ক্ষতিকারক সফটওয়্যারের মাধ্যমে হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল। সফটওয়্যারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে হামলার কার্যক্রমের চিহ্ন মুছে ফেলা যায় এবং তদন্তকারীদের পক্ষে ঘটনার সূত্র অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে ধারাবাহিক সাইবার হামলা ও ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাইন্যান্সের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধার করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: আল জাজিরা

Related posts

শিক্ষায় বিনিয়োগ ও সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবিতে জার্মানিতে জেন জি বিক্ষোভ

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৯০

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের মহাসমাবেশ