ইসরায়েলের নির্বাচন ‘চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের, তদন্ত দাবি

সরায়েলের নেসেট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা ও ব্যালট কারচুপির মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ভোটের পর এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি পুলিশ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রতি এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে দলটি অভিযোগ করে, ইসরায়েলের নির্বাচন সন্ত্রাসবাদ ও ইহুদি রাষ্ট্রের বিলুপ্তিকে সমর্থনকারী আরব দলগুলো গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রভাবিত করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটারদের সংগঠিত করতে নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

লিকুদ পার্টি জানায়, এ-সংক্রান্ত শত শত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পুলিশ, শিন বেট এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। দলটি অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফলের স্বচ্ছতাকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দলটির ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলি গণতন্ত্র ও নাগরিকদের ভোটাধিকারের ওপর আঘাত। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিকুদ পার্টির অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আরব দলগুলো পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল বিকৃত করেছে—এমন কোনো প্রমাণও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লিকুদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাহাতের মেয়র তালাল আল-ক্রেনাওই। ওয়ালাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্য বেদুইন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক।

আল-ক্রেনাওই বলেন, সঠিকভাবে ব্যালট পেপার ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, তিনি এর আগে এত স্বচ্ছ নির্বাচন দেখেননি।

ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেই কি নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলা যায়? আরব নাগরিকদের ভোট দিতে দিতে না চাইলে তা সরাসরি বলা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে নেসেটের সংবিধান, আইন ও বিচার কমিটির চেয়ারম্যান এবং ধর্মীয় জায়নবাদী পার্টির সংসদ সদস্য সিমচা রোটম্যানও নির্বাচনে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি শিন বেটের পরিচালক ডেভিড জিনি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন।

রোটম্যানের অভিযোগ, মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাম পার্টিকে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে ভোটারদের নগদ অর্থ, জ্বালানি কার্ড ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

Related posts

শিক্ষায় বিনিয়োগ ও সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবিতে জার্মানিতে জেন জি বিক্ষোভ

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৯০

সাইবার হামলায় চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ পূরণ করল বাইন্যান্স