ইরানের রাজধানী তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর বৈঠকের আগে এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তেহরানের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের জারি করা বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে ‘সেন্টার দে ল্যাং ফ্রঁসেজ’ (সিএলএফ) নামের কেন্দ্রটি সিলগালা করা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। একাধিকবার সতর্ক করার পরও কেন্দ্রটি লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেছে তারা।
এ ছাড়া ভাষা শিক্ষার আড়ালে কেন্দ্রটি ইরানি-ইসলামি সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ করেছে ইরান। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি বিভিন্ন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দক্ষ ইরানিদের দেশ ছাড়তে সহায়তার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ঘটনাটিকে ইরানে ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক উপস্থিতির ওপর ‘অগ্রহণযোগ্য’ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাস্কাল কনফাব্রু বলেন, গত জুলাইয়ে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের দুই কর্মীর ওপর হামলার পর কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া ইরানে ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন আঘাত।
এর মধ্যেই ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ফাঁকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকের আগে দুই মন্ত্রীর মধ্যে প্রকাশ্য বাক্যবিনিময়ও হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহসা আমিনির মৃত্যুর চতুর্থ বার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর আরাকচি তার মন্তব্যকে ‘কুমিরের কান্না’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে আলজেরিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে ফরাসি নাগরিকদের আটক, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দুই দেশের কূটনীতিকদের বহিষ্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান-প্যারিস সম্পর্কে টানাপড়েন রয়েছে। গত গ্রীষ্মে ইরান দুই ফরাসি কূটনীতিককে গ্রেপ্তার করে পরে বহিষ্কার করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ফ্রান্সও ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে।
ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধের ঘটনা এবং দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন বৈঠক তাই ইরান-ফ্রান্সের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।