Home বিচিত্র মুগদা থানায় নাগরিকবান্ধব সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

মুগদা থানায় নাগরিকবান্ধব সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

A+A-
Reset

থানার নাম শুনলেই অনেকের মনে ভয় বা অস্বস্তি কাজ করে— “থানায় গেলে ঝামেলা, মুখ গোমড়া মানুষ, আর কড়া কথা।” কিন্তু ঢাকার মুগদা থানায় গিয়ে সেই প্রচলিত ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে রাফির (ছদ্মনাম)।

একটি প্রয়োজনীয় কাজে তিনি সম্প্রতি মুগদা থানায় যান। মনে ছিল দুশ্চিন্তা; কীভাবে কথা বলবেন, কেমন ব্যবহার পাবেন, কাজটি ঠিকভাবে হবে তো? কিন্তু বাস্তবে ঘটল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

থানায় প্রবেশের পর তাঁর দেখা হয় জিডি অটোমেশন টিমের সদস্য মাসুদুর রহমান এবং সাব-ইন্সপেক্টর হাফসা আক্তার হ্যাপি-র সঙ্গে। তাঁদের আচরণ, হাসিমুখ এবং আন্তরিক ব্যবহারে মুহূর্তেই বদলে যায় তাঁর সব শঙ্কা।

তিনি জানান, “প্রথম কথাতেই মনে হয়েছিল, যেন বহুদিনের পরিচিত কেউ কথা বলছেন। একটা হাসি, একটু যত্ন আর ভদ্র আচরণ— মনটা একদম হালকা হয়ে গেল।”

এমনকি তাঁরা উপস্থিত নাগরিকদের চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। থানার ভেতরে এমন উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তাঁকে সত্যিই বিস্মিত করে।
তিনি বলেন, “বিশ্বাস করতে পারছিলাম না থানার ভেতরে বসে চা খাচ্ছি, হাসাহাসি করছি! মনে হচ্ছিল আমি কোনো সরকারি অফিসে না, বন্ধুর বাসায় এসেছি।”

সবশেষে তাঁর কাজটি দ্রুত ও অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে দেন তাঁরা। এতে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি বলেন,
“সেদিন বুঝেছিলাম ‘জনগণের পুলিশ’ কথাটা শুধু স্লোগান না, বাস্তবও হতে পারে।”

তার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, পুলিশ বাহিনীর মানবিক আচরণ ও আন্তরিকতা মানুষের মনে আস্থা ও ভালোবাসা তৈরি করতে পারে। খোঁঁজ নিয়ে জানা যায় জুলাই গণঅভ্যুথ্যান পূর্বে থানায় জিডি করতে আসলে অনেক সময় পার হয়ে যেতো তাও সঠিক সেবা পেতেন না এখানের নাগরিকরা। তবে জুলাই গণঅভ্যুথ্যান পরবর্তী সময়ে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে থানায় প্রেরণ করা হয় জিডি অটোমেশন টিম যারা খুবই সুন্দর ও স্বচ্ছভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এখানের নাগরিকদের। 

তিনি আরও বলেন, “মুগদা থানার এই মানবিকতা আর আন্তরিকতা দেশের প্রতিটি থানায় ছড়িয়ে পড়ুক— তাহলেই মানুষ পুলিশের কাছ থেকে শুধু নিরাপত্তা নয়, আস্থাও পাবে।”
প্রতিটি থানায় যদি মুগদা থানার মতো আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়, তবে থানা আর ভয় নয়— হবে নাগরিকের ভরসার স্থান।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা