ব্রিটেনে প্রতি চার মিনিটে একটি করে আইফোন চুরি হয়। গতবছর লন্ডন শহরে ৮০ হাজার আইফোন চুরি হয়েছে! চুরি হওয়া একটি আইফোনের “ফাইন্ড মাই আইফোন” নামক অ্যাপের মাধ্যমে একটি আইফোনকে উদ্ধার করতে গিয়ে হিথ্রো এয়ারপোর্ট থেকে পাচার হতে যাওয়া ৪০ হাজার আইফোন জব্দ করেন ব্রিটিশ পুলিশ। চুরি হওয়া প্রতিটি আইফোন ৩০০ পাউন্ডে চীনের আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের কাছে বিক্রি করছিল আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের ব্রিটেনের পক্ষের দুজন আফগান ও ইন্ডিয়ান নাগরিক, যারা পুলিশের জালে ধরা পরে গ্রেপ্তার হন। এদিকে বাংলাদেশের মতো ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম বেড়েছে পূর্বের তুলনায় প্রায় দ্বিগুনেরও বেশি। লন্ডনে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত “নাইফ ক্রাইম” বা ছুরিকাঘাত দুর্ঘটনা প্রায় ৮১ গুন বেড়েছে, যদিও ২০২৫ সালের মার্চে এসে তা ১% কমেছে। ন্যাশনাল হেলথের তথ্য অনুযায়ী সামগ্রিক অপরাধ কিছু কমলেও ছুরি দ্বারা আক্রমণের সংখ্যা সর্বোচ্চই রয়েছে। গতবছর ১০ জনকে ছুরিকাঘাত করে নির্মম ভাবে জখম ও হত্যা করা হয়েছে খোদ লন্ডন শহরেই! ২০২৩ সালে ১৮ জনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে এই শহরেই! এছাড়াও যত্রতত্র ছিচকে চুরি ও ছিনতাই হচ্ছে শহরতলি ছাড়াও শহরের প্রাণকেন্দ্রে পর্যন্ত। হিউমিনিয়াম রিপোর্টে বলা হয়েছে; দারিদ্রতা, সামাজিক বৈষম্য, মাদকাসক্তি ও উচ্চাভিলাসী জীবনাকাঙ্ক্ষাই এর প্রধান কারণ। কয়েকদিন পূর্বে লন্ডনের একটি পার্কে দাঁড়িয়ে মোবাইল ব্রাউজিং করছিলাম। স্কুটি (ইলেকট্রিক বাইসাইকেল) নিয়ে দ্রুত গতিতে বাজ পাখির মতো ছুটে এসে আমার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিতে চেয়েছিল একটি শ্বেতাঙ্গ কিশোর। কালো পোশাকে হুডি দিয়ে মাথা ঢাকা দুর্বার গতিতে আমার দিকে ছুটে আসতে দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম সে যে ছিনতাইকারী।কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম প্রিয় মোবাইলটিকে, তা না হলে সেদিন শখের মোবাইল খানা হাতছাড়া হয়ে যেত মুহূর্তেই। দামি স্কুটি, দামি সাইকেল, দামি মোবাইল ফোন এবং এটিএম বুথ সংলগ্ন ব্যাংক কার্ড ও টাকা ভর্তি ওয়ালেটই এদের মূল টার্গেট। এই ডানপিটে “টিন গ্যাংরা” সেলফ মোটিভেটেড হয়ে বা কষ্ট করে বড়লোক হতে চায় না, তারা বিনা পরিশ্রমে অন্যেরটা দিয়ে বড় লোক সাজতে চায়। বড়লোক হওয়া আর বড়লোক সাজার মাঝে যে পার্থক্যটা সেই পার্থক্যটাই এরা বুঝতে পারে না। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কৃষ্নাঙ্গ কিশোররাই যে এই চক্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ তা বললে নেহায়েতই ভুল হবে, শ্বেতাঙ্গ কিশোররাও এই চক্রে সংখ্যায় কম নয়। আমাদের কমিউনিটির প্রিয়মুখ এবং বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত দৈনিক মিল্লাতের প্রকাশক মিজানুর রহমানের ছোট ছেলে মাত্ত্বিয়া রহমান এমনি একটি কিশোর গ্যাংগের কবলে পরে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছে গত সপ্তাহে! মাত্ত্বিয়া জিম থেকে বের হলে হুডি পরা কিছু কিশোর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার জন্য মাত্ত্বিয়াকে প্রথমে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে ছুরি বের করে আঘাত করার জন্য উদ্যত হলে মাত্ত্বিয়া দ্রুত দৌড়ে প্রাণে বাঁচে। মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিক লোকাল পুলিশ প্রশাসনে সাধারণ ডায়েরি করলেও “টিন গ্যাং” এখনো ধরাছোয়ার বাহিরেই রয়ে গেছে। জিমের মতো নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরেও টিন গ্যাংরা পুলিশ প্রশাসনকে ধর্তব্যে নেয় না। এমন ঘটনায় আমাদের কমিউনিটি যারপর নাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে প্রতিটি মুহূর্ত। প্রশাসন যদি দ্রুত এই ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে তার নাগরিককে রক্ষা করতে না পারে তাহলে আত্মাকে হাতের মুঠোয় নিয়েই নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন কাটাতে হবে।
101