ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং তেল বিক্রি থেকে আয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্য আমদানি করতে আগের তুলনায় বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে। ফলে বাড়ছে পণ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়।
তিনি বলেন, আগে জাহাজে করে সহজে পণ্য আমদানি করা গেলেও বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে পণ্যগুলোকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশে আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত উৎপাদিত ও বাজারজাত করা পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দেশটির রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে তেল বিক্রি থেকে সরকার বড় ধরনের আয় করলেও বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আগের মতো কর আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না, যা সরকারের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) বেশ কয়েকটি কারখানা ধ্বংস করেছে। ফলে আগের মতো সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায় করাও সম্ভব হচ্ছে না।’
তবে নানা সংকট ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তিনি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।