Home আজকের মিল্লাত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের ‘গুঁড়িয়ে’ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের ‘গুঁড়িয়ে’ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

A+A-
Reset

ডারউইনের বাইশ গজে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে ৫৭ রানের ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট খেলতে নেমে এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে।

চার দিনজুড়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দিন থেকেই দুর্দান্ত বোলিং দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আধিপত্য ধরে রাখে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে পাওয়া গেল ঐতিহাসিক এক জয়।

২০০৩ সালে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে সেই পুরোনো স্মৃতিকে বদলে দিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ম্যাচের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান। দুই সেশনেরও বেশি সময় দাপট দেখিয়ে স্বাগতিকদের ২০০ রানের আগেই অলআউট করে দেন তারা। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণ—মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডকে ঘিরে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও ছিল শঙ্কা। কিন্তু মাঠে সেই হিসাব বদলে দেয় বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তানজিদ হাসান তামিম। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে টেলএন্ডারদের কার্যকর অবদানে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় বাংলাদেশ।

বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল নতুন মাইলফলক। এত বড় লিড এর আগে কোনো টেস্টে পায়নি বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই বল হাতে আবারও আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া এই পেসার দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের চাপে রাখেন।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। বিশেষ করে গ্রিন সেঞ্চুরি করে দলকে লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের লিড সীমিত রাখেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে ফিরলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কোনো বিপদ হতে দেননি। অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তারা।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচের স্মৃতি স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও মূল লড়াইয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। চার দিন ধরে দাপট দেখিয়ে শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশই।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়; এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক। ডারউইনের এই জয় তাই দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা