Home আজকের মিল্লাত ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত, ৬৭০ কারখানা বন্ধ

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত, ৬৭০ কারখানা বন্ধ

A+A-
Reset

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়ার পাশাপাশি নতুন করে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকরাও। বিক্ষোভের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৬৭০টি পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) দিনভর এসব এলাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাজীপুরে পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক এবং নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডও অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এ আন্দোলনে কিছু শিল্পমালিক, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রীরও ইন্ধন রয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বীকার করার অভিযোগে রাজীব চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

 

পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। গত রোববার দুপুরের এসব ঘটনার পর সোমবার পুলিশ বাদী হয়ে মামলাগুলো করে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, পাঁচটি মামলার প্রতিটিতে অজ্ঞাতনামা এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে নামার চেষ্টা করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের কয়েকটি শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে যান।

এ ছাড়া সকালে রূপনগর এলাকা থেকে শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর ২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসার চেষ্টা করেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকেই মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামান।

পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রোববারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় শুধু শ্রমিকরাই জড়িত ছিলেন, এমন নয়। তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে ৬৭০টি পোশাক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

সোমবার বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার হিসাব অনুযায়ী দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪টি খোলা ছিল। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলে। এ দুই এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টির শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে যান। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরেছেন ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ জন শ্রমিক।

একই চিত্র দেখা গেছে সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায়। সেখানে ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এসব কারখানার ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ জন শ্রমিক কাজ না করে বাড়ি ফিরে যান।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরে ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৫টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফেরেন ৫৩ হাজার ৪৫০ জন শ্রমিক।

 

গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।

সোমবার বিকেলে সাভারের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। নাশকতাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। গার্মেন্টস খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন শ্রমিকদের কাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ। কেউ বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে কিংবা চাপ সৃষ্টি করলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

একই সঙ্গে কারখানা মালিকদের প্রতিষ্ঠান চালু রাখার আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তিনি। তিনি জানান, ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। সিসিটিভি ও অন্যান্য মাধ্যমে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার দিনভর উত্তপ্ত ছিল সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের এক সহকারী পুলিশ সুপারসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নরসিংহপুরে হা-মীম গ্রুপের একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিশ্চিন্তপুরের নিউ এইজ কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হন তারা। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার সামনেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

বেলা ১১টার দিকে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। এতে শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ, কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে আটকের ঘটনায় তারা নিন্দা জানাচ্ছেন।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন এবার ছড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জেও। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার নগরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবু মার্কেট এলাকার ওভারপাসও শ্রমিকদের দখলে চলে যায়। ফলে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইংসহ শিবু মার্কেট এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ আন্দোলনে অংশ নেন। ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অবরোধ চলাকালে শ্রমিকরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এ সময় কয়েকজন শ্রমিকের হাতে লাঠিসোঁটাও দেখা যায়।

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এ তথ্য জানান।

 

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মহানগরীর নাওজোর, কোনাবাড়ী, ভোগড়া বাইপাস, চৌধুরী বাড়িসহ কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।

সকাল থেকেই কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেরিয়ে এসে মহাসড়কে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে কোনাবাড়ী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন। বেলা ১২টার দিকে ভোগড়া বাইপাসসহ কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

নগরীর নাওজোর এলাকায় ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং জেলা পুলিশের একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সালনা ও ছয়দানা মালেকের বাড়ি এলাকায়ও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ছাড়া সফিপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। নাওজোর এলাকায় সময় টিভির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ও ক্যামেরাপারসনও আহত হয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাশিমপুর থানা পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে, কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা আন্দোলনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত শ্রমিকরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে, মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা ও কারখানায় ভাঙচুর ঠেকাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কালিয়াকৈর, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, ভোগড়া বাইপাস, নাওজোর ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান নেন। তারা ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মিছিল করেন।

সকালে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেয়র মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নগরীর নাওজোর এলাকায় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় তিনি শ্রমিকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়কে মিছিল ও সমাবেশ করেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে কিছু এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

 

গাজীপুর মহানগরীর আদালতে একটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাকাওয়াত হোসেন ইমতিয়াজ। এ সময় তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর বাইমাইল সাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এসআই শাকাওয়াত হোসেন মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও সেখানে কয়েকজন তাকে মারধর করেন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কোনাবাড়ীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পুলিশের সহায়তায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে ওই পুলিশ কর্মকর্তা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা