শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, যুক্তিতর্ক শেষ হলে সাধারণত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকে।
মামলার ১৩তম সাক্ষী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানীর জেরা শেষ হওয়ার পর দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন বলে তারা আশা করছেন। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের সাক্ষী হাজির করতে পারবে। এখন পর্যন্ত আসামিপক্ষ দুজন সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক গতিতে বিচারকাজ চললে আগামী অক্টোবরের মধ্যে উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, ১০৪ জন ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে রাষ্ট্র তার সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলামের ব্রিফিংয়ের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসামি জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও তার বোন নাজনীন নাহার।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশন জোরালোভাবে দাবি করলেও অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো সাক্ষী তারা উপস্থাপন করতে পারেনি।
নাজনীন নাহারের দাবি, জিয়াউল আহসানকে মূলত লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিয়াউল আহসানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, যাতে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে জবানবন্দি দেন। তবে তিনি তা দেননি। তার দাবি, বিষয়টি প্রসিকিউশন মেনে নিতে পারেনি।