দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক, একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধার

দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নতুন করে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সবগুলো একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইকুরহুলেনি পৌর এলাকার একটি খোলা মাঠ থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের টহলরত গাড়ির কর্মীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত নারীর পরিচয়, বয়স ও মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর এক দিন আগে, শনিবার একই পৌর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আরও এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান টমি মথোমবেনি জানিয়েছেন, ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনায় দুজন নারীকে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে।

তবে প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান মথোমবেনি বলেছেন, নবম হত্যাকাণ্ডটি আলাদা ঘটনা বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। অন্য কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ বলছে, কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে কিছুটা মিল পাওয়া গেছে। তবে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ইকুরহুলেনিতে জুলাই ও আগস্টে মাত্র ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় আরও ছয়টি মরদেহ পাওয়া যায়।

শনিবারের মরদেহ উদ্ধারের আগে নিহত নারীদের সবাই ছিলেন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী। তাদের কয়েকজনকে পুরোপুরি বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রথম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওই নারীকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার শরীর তার দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। দেশটিতে নারীদের হত্যার হারও বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।

শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, নারীদের হত্যার ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

Related posts

মডেল মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি নির্ধারণ, জারি নতুন নীতিমালা

বেলুচিস্তানে ৯৬ ঘণ্টায় ৭১ ‘সন্ত্রাসী’ নিহতের দাবি পাকিস্তানের

গাজীপুরে বিয়ের নামে প্রতারণা: ভুয়া ভলিউম ও জাল কাবিনে প্রতারিত নারী, থানায় মামলা