আসন্ন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘অবিলম্বে’ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদের বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*-এর এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা গোপন বৈঠকে সতর্ক করেছেন—ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত তার বর্তমান মেয়াদের বাকি দুই বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
এদিকে একই দিনে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নিং বোর্ড ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।
এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ২৩টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন ও নাইজার। আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর কোনো আইনগত বা বাস্তব ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের পরিদর্শনের সময় দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টা চালালে দেশটিকে আরও তেলবাহী ট্যাঙ্কার হারাতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নৌ চলাচল সীমিত করেছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি