Home আজকের মিল্লাত পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে নাসার ১.৪৫ টন ওজনের মহাকাশযান

পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে নাসার ১.৪৫ টন ওজনের মহাকাশযান

A+A-
Reset

মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রায় ২২ বছর আগে মহাকাশে পাঠানো নাসার একটি পর্যবেক্ষণযান এবার পৃথিবীতে ফিরে আসছে। ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড বা প্রায় ১ দশমিক ৪৫ টন ওজনের মহাকাশযানটির নাম ‘নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হওয়ার কথা।

মহাকাশযানটির বেশির ভাগ অংশ বায়ুমণ্ডলের ঘন স্তরে প্রবেশের পর পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে নাসা। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীর কোনো মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। এ ঝুঁকি ২ হাজার ১০০ জনের মধ্যে একজনের সমান।

নাসার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহাকাশযানটির ধ্বংসাবশেষ দক্ষিণ অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে উত্তর অক্ষাংশের ২০ দশমিক ৬ ডিগ্রির মধ্যে পড়তে পারে। অর্থাৎ বিষুবরেখার উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ১ হাজার ৪২০ মাইল বা ২ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকির আওতায় রয়েছে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আফ্রিকা, দক্ষিণ ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এ ছাড়া বিশাল সমুদ্র এলাকাও এর আওতায় পড়েছে।

তবে মহাকাশযানটি ঠিক কখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ধরনের পূর্বাভাসে সাধারণত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান থাকতে পারে।

অলাভজনক গবেষণা সংস্থা অ্যারোস্পেস করপোরেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। তবে এ সময়ের দুই ঘণ্টা এদিক-সেদিক হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর সর্বশেষ পূর্বাভাসে সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করা হয়েছে সকাল ৭টা ৪২ মিনিট।অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মতে, বর্তমানে কোনো মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হলে কার্যক্রম শেষে সেটির পৃথিবীতে ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে আরও কঠোর নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হতো।

২০১৯ সালে হালনাগাদ করা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসা মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতিমালায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা ১০ হাজারে একজনের কম হতে হবে।

অ্যারোস্পেস করপোরেশনের মুখপাত্র পার্কার উইশিক এক ই-মেইলে জানান, এখানে হতাহত বলতে গুরুতর আহত হওয়া কিংবা প্রাণহানির ঝুঁকিকে বোঝানো হয়েছে।

নাসা আগে থেকেই জানত, একসময় সুইফট নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে নেমে আসতে পারে। তবে সংস্থাটির আশা ছিল, গত জুলাইয়ে পরিচালিত একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মহাকাশযানটিকে ধরে আবারও উঁচু কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে এর কার্যক্ষমতা আরও ১০ বছর বা তার বেশি বাড়ানো যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ ও টানের কারণে মহাকাশযানটি ক্রমেই নিচের দিকে নেমে আসে। একপর্যায়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা কমে মাত্র ১৭১ মাইল বা ২৭৫ কিলোমিটারে দাঁড়ায়। এরপর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়।

নাসা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ওই পর্যায়ে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে পারছিল না। ফলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ অবস্থায় চলে যায়।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা