রুম্মান মাহমুদ শৈশব,,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা ও বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এবং সড়কের পাশে রাখা বিভিন্ন মালামাল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বিভিন্ন বাজার, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ অভিযান শুরু হয়।
এর আগে গত ১ ও ২ নভেম্বর সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে না নেওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন কুঁদির গাছতলা থেকে মোংলার দিগরাজ বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা, অস্থায়ী ঘর, দোকানপাট এবং রাস্তার পাশে রাখা কাঠ, ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে কোনো ধরনের মালামাল না রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানটি খুলনা-মোংলা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানেও পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাটাখালী গোলচত্বর, লখপুর, নোয়াপাড়া মোড়, শ্যামবাগাত, শুকদাড়া, চুলকাটি বাজার, ভট্ট মোড়, সোনাতুনিয়া, মাদ্রাসা স্ট্যান্ড, ভরসাপুর বাজার, ফয়লা বাজার, রনসেন মোড়, ভাগা বাজার, চেয়ারম্যানের মোড়, বাবুর বাড়ি বাজার, গুনাই ব্রিজ বাজার ও দিগরাজ বাজার।
এদিকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কেও একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দিগরাজ থেকে মোংলা ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেও অভিযান চলমান রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও বিভিন্ন মালামাল রাখার কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সড়কের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় যানবাহন পার্কিং এবং পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এসব সমস্যা নিরসন এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা ও বাগেরহাট সফর কর্মসূচি রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি হেলিকপ্টারযোগে মোংলায় পৌঁছানোর পর সড়কপথে বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে সড়কটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সড়কের পাশে ইট, বালু, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা যাবে না। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল, যানজট নিরসন ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ বা মালামাল রেখে সড়কের জায়গা দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হবে।”