Home আজকের মিল্লাত জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৯০

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৯০

A+A-
Reset

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ করেছেন লাখো তরুণ ও শিক্ষার্থী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৭০ হাজার। তবে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী জোটের দাবি, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। শুধু প্যারিসেই অংশ নেন প্রায় ২ লাখ মানুষ।

প্যারিস ও লিয়নে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে কিছু এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্যারিসে মূল পদযাত্রা শেষ হওয়ার স্থানে ডাস্টবিন ও রাস্তার বিভিন্ন আসবাবপত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার ঘটনাস্থল থেকে জানান, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপকভাবে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। গ্যাসের তীব্রতার কারণে তাঁর সংবাদকর্মীদের দলকেও ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে হয়। শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়ায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তাঁরা।

প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার বিরোধিতা করলেও সরকারের প্রতি তাঁদের আস্থাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালেও সরকার তাঁদের দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ লাউডস্পিকারে সতর্কবার্তা দেয়। একই সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে এগিয়ে আসেন। কিছু বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণ অবস্থানের বার্তা দিতে হাত উঁচু করে রাখেন। তবে মাস্ক পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে রাস্তার পাথর তুলে পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করেন। এ ছাড়া অন্তত একটি দাহ্য বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেস সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ হ্যালোইনের রাতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেন।

এদিকে, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় আনার উপায় খুঁজছেন তাঁর সরকার।

এর আগে গত মাসে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নও যোগ দেয়। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কর্মসূচির একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও মূল্যবৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। জার্মানির কোলনসহ ৩০টিরও বেশি শহরে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাঁটাই এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরোধিতায় বিক্ষোভ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোলনে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে এসব কর্মসূচিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেন।

এ ছাড়া স্পেনের বার্সেলোনায় ২৪ অক্টোবরের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তারের পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়া শহরেও বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র: আল জাজিরা

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা