লেখক : মাওঃ আবু মুসা আল হাফিজ
প্রাককথন :
আধুনিক সভ্যতা মানুষের জীবনকে অনেক সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলেছে। বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থা মানুষের সামনে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনে তৈরি হয়েছে নানা সংকট।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মানসিক অস্থিরতা, অতিরিক্ত ভোগবাদ, পারিবারিক দূরত্ব, একাকিত্ব, হিংসা-বিদ্বেষ, অশ্লীলতা, মাদক, সুদ-ঘুষ, প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আজ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে।
প্রশ্ন হলো—এসব সংকট থেকে মুক্তির পথ কী?
মুসলিমের জন্য উত্তরটি সুস্পষ্ট। মানুষের সৃষ্ট কোনো মতবাদ নয়; বরং মহান আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা আল-কোরআন ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথনির্দেশনা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
«إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ»
“নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথের দিশা দেয়, যা সর্বাধিক সঠিক ও সুদৃঢ়।”
—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৯
অর্থাৎ কোরআন শুধু ইবাদতের কিছু নিয়ম শেখায় না; বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, নৈতিকতা ও মানবিক জীবন পরিচালনার জন্য মৌলিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
মানসিক অস্থিরতা ও উদ্বেগের সমাধান
আধুনিক জীবনের অন্যতম বড় সংকট হলো মানসিক অস্থিরতা। মানুষের হাতে যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম থাকলেও অন্তরের প্রশান্তি যেন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে করা, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, অর্থনৈতিক চাপ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়।
মহান আল্লাহ বলেন—
«الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ»
“যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।”
—সূরা আর-রাদ, ১৩:২৮
এই আয়াত আমাদের শেখায়—প্রকৃত প্রশান্তির মূল উৎস হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, তাওবা ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল মানুষের অন্তরকে দৃঢ় করে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে একজন মুমিনের জীবনে কোনো দুঃখ বা কষ্ট থাকবে না। বরং ঈমান মানুষকে দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও সঠিকভাবে মোকাবিলা করার শক্তি দেয়।
ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। চাকরি থাকবে কি না, ব্যবসা কেমন হবে, অর্থের ব্যবস্থা কীভাবে হবে—এসব চিন্তা অনেক সময় মানুষকে অস্থির করে তোলে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
«وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।”
—সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩
তাওয়াক্কুল মানে কর্মবিমুখ হয়ে বসে থাকা নয়। বরং বৈধ উপায় অবলম্বন করে চেষ্টা করা এবং ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ، وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ، احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلَا تَعْجِزْ»
“শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়; তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তোমার জন্য যা উপকারী, তার প্রতি আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং অক্ষম হয়ে বসে থেকো না।”
—সহিহ মুসলিম, ২৬৬৪
এ হাদিস আধুনিক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—চেষ্টা করতে হবে, আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে এবং হতাশ হওয়া যাবে না।
ভোগবাদ ও অতিরিক্ত দুনিয়ামুখিতা
আধুনিক সমাজে সফলতার মাপকাঠি অনেক সময় অর্থ, গাড়ি, বাড়ি, পোশাক ও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে নির্ধারণ করা হয়। ফলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে।
কোরআন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
«وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ»
“দুনিয়ার জীবন তো প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:১৮৫
ইসলাম দুনিয়ার বৈধ সম্পদ অর্জন করতে নিষেধ করেনি। বরং হালাল উপার্জনকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু সম্পদ যেন মানুষের হৃদয়ের মালিক হয়ে না যায়—এটাই ইসলামের শিক্ষা।
আল্লাহ বলেন—
«وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا»
“দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না।”
—সূরা আল-কাসাস, ২৮:৭৭
অতএব ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ জীবন শিক্ষা দেয়—দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করতে হবে, কিন্তু আখিরাতকে ভুলে যাওয়া যাবে না।
পরিবারে দূরত্ব ও সম্পর্কের সংকট
প্রযুক্তি মানুষকে দূরের মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছে, কিন্তু কখনো কখনো একই ঘরে থেকেও মানুষ একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, সন্তানদের সঙ্গে সময়ের অভাব এবং পারিবারিক দায়িত্বে অবহেলা সামাজিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
«وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ»
“তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:১৯
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي»
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম; আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।”
—জামে তিরমিজি
অতএব পরিবারকে সময় দেওয়া, ভালো কথা বলা, ক্ষমাশীল হওয়া, দায়িত্ব পালন করা এবং পরস্পরের অধিকার রক্ষা করা ইসলামী পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জিহ্বার অপব্যবহার
আধুনিক প্রযুক্তির বড় একটি পরীক্ষা হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যাচাই না করে খবর ছড়িয়ে দেওয়া, গীবত, অপবাদ, কটূক্তি, ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ এবং মানুষের সম্মানহানি আজ সহজ হয়ে গেছে।
আল্লাহ বলেন—
«يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا»
“হে মুমিনগণ! কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে এলে তোমরা তা যাচাই করে নাও।”
—সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:৬
আরও বলেন—
«وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا»
“তোমরা একে অপরের গীবত করো না।”
—সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১২
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একজন মুসলিমকে মনে রাখতে হবে—প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পোস্ট এবং প্রতিটি মন্তব্যের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
অশ্লীলতা ও দৃষ্টির ফিতনা
ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অশ্লীলতা আজ হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি বড় পরীক্ষা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
«قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ»
“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।”
—সূরা আন-নূর, ২৪:৩০
পরের আয়াতে মুমিন নারীদেরও দৃষ্টি সংযত ও পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতএব প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়; বরং প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়। জ্ঞান, শিক্ষা, দাওয়াহ ও কল্যাণে প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেমন সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে, তেমনি হারাম কাজে ব্যবহার করলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে।
অর্থনৈতিক সংকট ও হালাল উপার্জন
অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ হলো সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, মাপে কম দেওয়া, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রবণতা।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
«وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا»
“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।”
—সূরা আল-বাকারা, ২:২৭৫
ইসলাম অর্থ উপার্জনের বিরোধী নয়; বরং হালাল উপার্জনকে উৎসাহিত করে। একজন মুসলিমের উচিত সততা, আমানতদারি ও ন্যায়নীতির সঙ্গে ব্যবসা ও কর্মজীবন পরিচালনা করা।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»
“যে আমাদের ধোঁকা দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
—সহিহ মুসলিম
বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য ও সবর
জীবনে বিপদ আসবেই। রোগ, মৃত্যু, অর্থনৈতিক ক্ষতি, সম্পর্কের ভাঙন কিংবা অন্য কোনো পরীক্ষা—কোনো মানুষই এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়।
আল্লাহ বলেন—
«وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ»
“আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।”
—সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫
এরপর আল্লাহ বলেন—
«الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ»
“যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তখন তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’”
—সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৬
সুতরাং বিপদে ভেঙে না পড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, সবর করা এবং বৈধ উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করাই মুমিনের পথ।
হতাশা নয়, তাওবা ও আল্লাহর রহমতের আশা
মানুষ ভুল করে। গুনাহ হয়ে গেলে শয়তান মানুষকে বোঝাতে চায়—তার আর ফিরে আসার পথ নেই। কিন্তু কোরআন হতাশ হতে নিষেধ করেছে।
আল্লাহ বলেন—
«قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا»
“বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”
—সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩
এ আয়াত একজন পাপী মানুষের জন্য আশার দরজা খুলে দেয়। সত্যিকারের তাওবা মানুষকে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ দেয়।
আধুনিক জীবনের সংকটের মূল সমাধান
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আধুনিক জীবনের সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
প্রথমত—ঈমানকে শক্তিশালী করা।
দ্বিতীয়ত—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।
তৃতীয়ত—নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা।
চতুর্থত—জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার বৃদ্ধি করা।
পঞ্চমত—হালাল উপার্জন ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা।
ষষ্ঠত—পরিবারের অধিকার যথাযথভাবে পালন করা।
সপ্তমত—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তাকওয়া ও সতর্কতা অবলম্বন করা।
অষ্টমত—বিপদে সবর এবং নিয়ামতে শুকর করা।
নবমত—আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রেখে বৈধ উপায়ে চেষ্টা করা।
দশমত—ভুল হলে দ্রুত তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।
সর্বশেষ আমরা বলতে পারি,
আধুনিক জীবন আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু অন্তরের প্রশান্তি কিনে দেওয়ার ক্ষমতা প্রযুক্তি বা সম্পদের নেই। মানুষের প্রকৃত শান্তি আসে তার স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
«وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا»
“আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন।”
—সূরা ত্বহা, ২০:১২৪
তাই আধুনিকতার প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু আধুনিকতার নামে ইসলামী মূল্যবোধ বিসর্জন দেওয়া যাবে না। প্রযুক্তি থাকবে হাতে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাকওয়ার; অর্থ থাকবে জীবনে, কিন্তু হৃদয়ের আসন হবে আল্লাহর জন্য; জ্ঞান থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে নৈতিকতা; স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে আল্লাহর বিধানের সীমার মধ্যে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উপকারী বিষয়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে, আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে এবং দুর্বল হয়ে বসে থাকা যাবে না।
কোরআনের আলোয় জীবন গড়লে সংকটহীন জীবন হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু সংকট মোকাবিলার সঠিক পথ পাওয়া সম্ভব। আর সেই পথই মুমিনের প্রকৃত সফলতার পথ—দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে নাজাত।
লেখক : মাওঃ আবু মুসা আল হাফিজ