নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ একসঙ্গে জোগান দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পে স্কেলের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে সরকার হিসাব-নিকাশ করছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নতুন পে স্কেল এবং বড় উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
নতুন বেতন কাঠামোর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একসঙ্গে পুরো অর্থ দেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’ দুই ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং এখনো হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে।’
বিপুল আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থায় অর্থায়নের জায়গা সংকুচিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। কর আদায় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে কর সংগ্রহে অদক্ষতা, সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির মতো সমস্যা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।
তাঁর দাবি, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কর আদায়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলেও জানান তিনি।
সরকারের অর্থায়ন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করার উদ্যোগসহ কর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে সরকারের অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কারণ সরকার নিয়মিত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের এ পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।