Home আজকের মিল্লাত মক্কা চুক্তিতে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস, লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

মক্কা চুক্তিতে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস, লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

A+A-
Reset

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় তিনি ‘খুবই খুশি’ বলে জানিয়েছেন। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কানাডার অংশগ্রহণের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। অন্যদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি ‘খুবই খুশি’।

ট্রাম্পের ভাষ্য, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশগুলো কীভাবে আরও কার্যকরভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে, সেটিও চুক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

তিন দেশের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে কানাডার অংশগ্রহণের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কানাডার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কানাডাকে তাদের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে, কানাডীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ করে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটিকে হুমকি দেয়। অথচ এরপরও ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে অটোয়া।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর বিনিময়ে কানাডা কী পাচ্ছে। ব্যঙ্গ করে বাঘাই বলেন, ‘এটি কানাডায় হকি নাইট নয়; এটি ওয়াশিংটনের ফার্ম টিম।’

এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্চে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত কানাডা। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর প্রতি অটোয়ার সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল জেলার হাদাথা শহরে রোববার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। একই সময়ে ইসরাইলি সামরিক যান শহরের বিভিন্ন অংশে চলাচল করেছে।

এর আগে ২ মার্চ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা দখলে নেয় তারা। লেবানন সরকারের হিসাবে, ওই সময় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি পরে কয়েক দফা বাড়ানো হয়। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী ১৫ আগস্ট ভোরেও লেবাননে বিমান হামলা চালায়।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের আল-কান্তারা শহরের উপকণ্ঠেও ইসরাইলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই অঞ্চলের আল-মানসুরি শহরে ইসরাইলি বাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিন্ত জবেইল জেলার কাফরা শহরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন একটি বাড়িতে আঘাত হানলে বাড়িটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দুই বেসামরিক নাগরিক আহত হন। এর আগে শহরটিতে একটি কোয়াডকপ্টার দিয়েও হামলা চালানো হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়।

এ ছাড়া আলী আল-তাহের পাহাড়, দাওহাত কাফর রুম্মান, দেইর সিরিয়ান ও আল-কান্তারা এলাকায় ইসরাইলি সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। ওয়াদি আল-হুজাইর এলাকায় একটি ইসরাইলি ট্যাংক প্রবেশ করেছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে যেতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন রয়েছে—এমন এলাকাগুলোকে শাস্তি দেওয়াও হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তারা মনে করছেন।

শনিবার আনসার শহরে চালানো একটি হামলায় একই পরিবারের সাত সদস্য নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে শান্তি প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে—এমন নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লেবাননে কয়েক দিন ধরে যুদ্ধ চলতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। ওই অবকাঠামো ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

চ্যানেল ১২ আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের জাবাল আলী আল-তাহের এলাকায় হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন সদস্য ভূগর্ভস্থ অবস্থানে আটকা পড়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল কিছুটা ‘সংযম’ দেখিয়েছে। হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডের জবাবে সেনাবাহিনী যেসব অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার কিছু অনুমোদন দেয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে লেবানন সীমান্তে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চললেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে চলা ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৬ জন নিহত, ১২ হাজার ৩০১ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকাও দখলে রেখেছে। কিছু এলাকা কয়েক দশক ধরে এবং কিছু ২০২৩-২৪ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান অভিযানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ১০ কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে অগ্রসর হয়েছে বলে বিভিন্ন লেবাননি সূত্র দাবি করেছে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

 

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা