আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। এর মধ্য দিয়ে একটি ১০ দলীয় ‘মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা’ গঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পর এনসিপির পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জুলাই প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা রক্ষার স্বার্থেই তারা বৃহত্তর ঐক্যের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, শুরুতে এনসিপি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যায়। তিনি বলেন, “আমাদের সহযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো এখনো সক্রিয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য তিনটি—একটি সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা; আসন্ন গণভোটে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সম্মিলিত প্রচার চালানো; এবং দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।
তবে জামায়াতের সঙ্গে এই জোট গঠন এনসিপির অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দলের প্রায় ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাসনিম জারাসহ কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মীর মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সমঝোতা আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।