ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রভাব পড়তে পারে ভারতের ওপর

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গঠন করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত মিন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি ৫৩টি আসন পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অপরদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। নির্বাচনে প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে নেতানিয়াহু সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আসনসংখ্যার হিসাবে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সামনে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন যোগ করলে মোট আসন দাঁড়ায় ৬৭টি। যদিও দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন সমীকরণ বাস্তবায়ন সহজ নয়।

আরব দলগুলোর রেকর্ডসংখ্যক আসন ইসরায়েলের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক হলেও রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলের একটি অংশ তাদের ক্ষমতার বলয়ের বাইরে রাখতে চায়। নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান—দুজনই আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হলেও দেশটির সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট ইরান ও হামাসের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও বিরোধী। নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর মূল মতপার্থক্য দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা নিয়ে।

এদিকে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন আর শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানিব্যবস্থাপনা, মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। তবে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধরন ও কূটনৈতিক অবস্থানে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারে ইসরায়েল। পাশাপাশি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাব দেওয়ারও চেষ্টা করতে পারে নতুন সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে।

ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভারতের জন্য কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। ইরানের সঙ্গেও দেশটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন।

এ অবস্থায় ভারতকে একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে হবে, অন্যদিকে আরব দেশগুলো ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে ভারতের অবস্থানও ভবিষ্যৎ কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: মিন্ট

Related posts

শিক্ষায় বিনিয়োগ ও সামরিক সেবার বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবিতে জার্মানিতে জেন জি বিক্ষোভ

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৯০

সাইবার হামলায় চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ পূরণ করল বাইন্যান্স