রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় খান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এ ধরনের নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমানোর সুযোগ তৈরি করবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
সমাজ গঠনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার ও এনজিওগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে।
আলোচনাসভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।