নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কেব্বি রাজ্যে সন্দেহভাজন সশস্ত্র ডাকাতদের সঙ্গে পুলিশের ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে ১০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই পুলিশ সদস্য।
সোমবার রাতে কেব্বি রাজ্যের সাকাবা স্থানীয় সরকার এলাকার রাফিন মাকুকু এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিহত পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে নাইজেরিয়া পুলিশ বাহিনী।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেব্বি ও পার্শ্ববর্তী জামফারা রাজ্যের মধ্যে চলাচল করছিল সন্দেহভাজন একদল সশস্ত্র ডাকাত। তাদের আটকাতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে ওই দলের গুলি বিনিময় শুরু হয়। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাইজেরিয়া পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিএসপি আনি ইনিয়েদু এক বিবৃতিতে জানান, সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধে ১৭ জন সন্দেহভাজন ডাকাতও নিহত হয়েছে। এ ছাড়া তাদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেল ধ্বংস করা হয়েছে।
নাইজেরিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক ওলাতুনজি দিসু নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু বাহিনী ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগের জন্য নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
নিহত পুলিশ সদস্যদের মরদেহ কেব্বি রাজ্যের রাজধানী বিরনিন কেব্বিতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কেব্বি ও জামফারা ছাড়াও নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোকোতো ও কাটসিনা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা, অপহরণ ও বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।