সৌদি পাইপলাইন চালু, টানা ষষ্ঠ সেশনে কমল তেলের দাম

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) টানা ষষ্ঠ সেশনের মতো কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে আন্তর্জাতিক বাজারের দুই প্রধান বেঞ্চমার্ক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ৪টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৯ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ০১ ডলারে নেমে আসে।

তেলের দামে পতনের পেছনে সৌদি আরবের পাইপলাইন পুনরায় চালুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিনিধিরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। এর ফলে প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে বাজারে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই হামলার জন্য ইরাকের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। পাইপলাইনটি পুনরায় চালুর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।

তবে পাইপলাইনটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি। হামলায় তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পাইপলাইনটির সর্বোচ্চ পরিবহন সক্ষমতা দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল।

এদিকে ইরাকও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার প্রক্রিয়াও চলছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত গত ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে বলে শিল্প খাতের প্রাথমিক তথ্য জানিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল, ওই সময়ে মজুত কমবে। ফলে বাড়তি সরবরাহের সম্ভাবনা তেলের দামের ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা—এই দুই বিষয়ই বর্তমানে তেলের দামের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: রয়টার্স

Related posts

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই: তারেক রহমান

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কির ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মতি

তৃণমূলের প্রতীক বদলে বিপাকে পতাকা ব্যবসায়ীরা