ইয়েমেনের হুথিদের অব্যাহত হামলার মুখে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে তুরস্ক প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে আঙ্কারা রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ক্ষেত্রে, তৈরি হতে পারে। এসব প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের কোনো সমস্যা হবে না।
গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের জনবহুল পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হামলা জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এসব হামলায় সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়েছে।
ফিদান বলেন, সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা না থাকা সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অংশ করে তোলা অগ্রহণযোগ্য। সংঘাতের অবসান ঘটাতে সব পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সেগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা এখন সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর অধিকারী তুরস্ক জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে করা এই প্রতিরক্ষা চুক্তি অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক জোটের বিকল্প নয় বলে জানিয়েছে আঙ্কারা।
এরই মধ্যে শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শহরের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তুরস্ক এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে পাকিস্তান এখনো হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি; তবে প্রয়োজন হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: ডন