রেলপথে নাশকতা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

রেলপথে নাশকতা ঠেকাতে দেশের সব রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন দেওয়া হয়। এতে একটি কোচ পুড়ে যায়।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা নাশকতা করছে, তারা জুলাই-আগস্টে পতিত সরকারের দোসর। তারা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও আন্দোলনের পরিবর্তে নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, জনসমর্থন না থাকায় পরাজিত ও পলাতক ওই শক্তি নাশকতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে চায়। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাশকতার মাধ্যমে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাশকতাকারীরা যেসব পথ দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলাপুরের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। নাশকতার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্টেশন এলাকায় সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা কার্যকর রাখা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি মূল প্ল্যাটফর্মে ঘটেনি। ওয়াশ প্ল্যান্টের দিক থেকে ট্রেনটি আসার সময় সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গানপাউডার ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের বিষয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আগুন লাগার জায়গাটি অন্ধকার ছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে একটি কোচ পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এ ছাড়া আরও কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তদন্ত শেষে তা জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

আরও নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নাশকতা করতে চায়, তারা এ ধরনের চেষ্টা করতেই পারে। তবে জনগণ ও প্রশাসন একসঙ্গে নাশকতা প্রতিহত করবে।

রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে প্রশাসন, আরএনবি, পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। এখন নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে, যাতে কোনো দিক দিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে রেল চলাচলে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘটনার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়েছে। তবে এর প্রভাবে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।

Related posts

সৌদির সামরিক চাহিদা পূরণে প্রস্তুত তুরস্ক, জানালেন ফিদান

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩

হরমুজে মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের