ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘অমান্যতার’ অভিযোগে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ। বুধবার ভোটাভুটির মাধ্যমে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার পায়নি আইএইএ। ওই সংঘাতে দেশটির কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়।
এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সর্বশেষ যুদ্ধেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এসব স্থাপনায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে আইএইএ।
বুধবারের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ২৩টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন ও নাইজার—মোট ৩টি দেশ। আর ৮টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবে আইএইএর মহাপরিচালককে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এ প্রস্তাবের মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হলো।
তবে এ পদক্ষেপকে অনেকটা প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরানের মিত্র রাশিয়া ও চীনের নিরাপত্তা পরিষদে সম্ভাব্য যেকোনো নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে আইএইএর এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির দাবি, এ পদক্ষেপ কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের অধীনে পাস হয়েছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই।’
এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যেও নাজাফি বলেন, আইএইএর এই পদক্ষেপ প্রত্যাশিত ফলের সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনবে।
সূত্র: এএফপি