উত্তর কোরিয়ার নৌবহরে যুক্ত হয়েছে পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম নতুন একটি ৫ হাজার টন ওজনের ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ। সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওনসানে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হয়। নতুন এই ডেস্ট্রয়ারের নাম ‘কাং কন’।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, যুদ্ধজাহাজটি সম্পূর্ণ দেশটির নিজস্ব উদ্যোগ ও প্রযুক্তিতে নির্মিত। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, কমিশনিং অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন তার স্ত্রী রি সোল-জু ও মেয়ে জু-আয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন ডেস্ট্রয়ারটিকে ‘অপরিহার্য আক্রমণাত্মক ডেস্ট্রয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার ‘রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার’ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।
কিম আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের এই যুদ্ধজাহাজের অন্যতম লক্ষ্য হবে শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হানা। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত বাহিনীতে’ পরিণত করার ঘোষণা দেন তিনি।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাং কন’কে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর পূর্ব সাগর নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি দেশটির নৌবাহিনীর দ্বিতীয় ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে উত্তর কোরিয়া তাদের তৈরি প্রথম ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’ কমিশন করে। একই শ্রেণির ওই যুদ্ধজাহাজটির ওজনও প্রায় ৫ হাজার টন। কমিশন করার পর ‘চোয়ে হিয়ন’কে উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম সাগর নৌবহরে যুক্ত করা হয়।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নতুন ডেস্ট্রয়ার কমিশন করার পরদিনই পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’ শুরু হয়েছে। ফলে উত্তর কোরিয়ার নতুন এই পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ কমিশনকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।