তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির কম্পন নেপালের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কয়েক দিন পর নতুন করে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল অঞ্চলটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এদিকে, নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল ও তিব্বতে বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে সম্মিলিত মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ।
নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও পাহাড়ধসে সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর দেশটিতে উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীও রয়েছেন। এর মধ্যে শুক্রবার গভীর একটি টানেলের ভেতর আটকে থাকা দুই নেপালিকে এবং শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে।
তিব্বত-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও হ্রদ থেকে আকস্মিক পানি নেমে আসা, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
হিমালয় অঞ্চলেও এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনায় অঞ্চলটির দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।