বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে রুপির মান স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে রেকর্ড ৭২৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তহবিল জোগাড়ের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল আরবিআই।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত জুনে আমদানি ব্যয় সামলানো এবং পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রবাসী আমানত কর্মসূচি চালু করে আরবিআই। প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচি থেকে ৮০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ এসেছে।
আরবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানত থেকে ১২৭ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, বাহ্যিক বাণিজ্যিক ঋণ থেকে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওভারসিজ ব্যাংকিং ঋণ থেকে ৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ হওয়ায় নির্ধারিত সেপ্টেম্বরের সময়সীমার আগেই গত ৩১ আগস্ট আমানত গ্রহণের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আরবিআই। জেবি ড্রাক্স অনরের এশিয়া অঞ্চলের কৌশলবিদ বিবেক রাজপাল বলেন, এই সাফল্য রুপির মান ধরে রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আরবিআইকে বাড়তি স্বস্তি দেবে।
তবে এই কর্মসূচির কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। আমানতের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিনিময় করায় বাজারে অতিরিক্ত রুপি প্রবাহিত হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
সুনিধি সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ সিদ্ধার্থ কোঠারির মতে, বাজার থেকে এই অতিরিক্ত তারল্য তুলে নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাময়িকভাবে ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে, বিশেষ এই আমানত কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়ালেও এর দীর্ঘমেয়াদি দায় রয়েছে। সংগৃহীত আমানতগুলোর মেয়াদ ৩ থেকে ৫ বছর হওয়ায় ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হবে ভারতকে।
ম্যাককুয়ারির এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৈদেশিক তহবিল সংগ্রহ করা হলে মেয়াদ শেষে এসব অর্থ ফেরত দেওয়ার সময় রুপি ও মুদ্রাবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স