প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ড্যান ড্রিসকল। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ড্রিসকল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি পেন্টাগন ছাড়বেন বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার নেতৃত্বে মার্কিন সেনাবাহিনী আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ড্রিসকলের পদত্যাগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে সিনেট অনুমোদিত কোনো স্থায়ী প্রধান থাকল না। সাবেক জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে হেগসেথ সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভ ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার মধ্যে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এ শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এতদিন ড্রিসকল দায়িত্বে টিকে ছিলেন। তবে হেগসেথের সঙ্গে তার বিরোধ অব্যাহত ছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রিসকলের আপত্তি সত্ত্বেও চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন হেগসেথ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুজনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এর আগে ড্রিসকলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কর্নেল ডেভিড বাটলারকে বরখাস্ত করতে হেগসেথ চাপ দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছিল ফক্স নিউজ। তবে ড্রিসকল সেই সিদ্ধান্ত ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন।
আধুনিকায়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ‘ড্রোন গাই’ নামে পরিচিত ছিলেন ড্রিসকল। সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক বাজেট, ১০ লাখের বেশি সেনাসদস্য এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বেসামরিক কর্মীর দায়িত্বে ছিলেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি