পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ‘দ্য হিন্দু’র সাংবাদিক কল্লোল ভট্টাচার্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চান।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন সব বিষয়ের ওপর আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখি এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করি।’
এর আগে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি চুক্তিটিকে ‘ইসলামি পরিবারের’ অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিজস্ব এবং এ নিয়ে অন্য কোনো পক্ষের অস্বস্তির কারণ থাকার কথা নয়।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক যেকোনো নিরাপত্তা কাঠামোয় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের এই অবস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চুক্তির অন্যতম উদ্যোক্তা পাকিস্তানও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ যদি এই নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তাহির আন্দ্রাবি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য, এর মূল উদ্দেশ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিকাশমান এই নিরাপত্তা কাঠামোয় এমন দেশগুলোই যুক্ত হতে পারবে, যারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যৌথ দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে চুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পাকিস্তানের এই মুখপাত্র।
এদিকে, একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের রংপুরে এক শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব দেশটির সরকারের।