রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।
আগামী রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। কার্যতালিকায় মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে অর্থ আদায় করা যাবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে দুই আসামি জেল আপিল করেন। হাইকোর্টে তাদের পক্ষে শুনানির জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এখন ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল—দুই দিক থেকেই মামলাটির বিচারিক পর্যালোচনা করবে হাইকোর্ট। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন ছাড়া ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।