Home আজকের মিল্লাত তিন ইরানি পাইলটকে আটকের অভিযোগ উড়িয়ে দিল কাতার

তিন ইরানি পাইলটকে আটকের অভিযোগ উড়িয়ে দিল কাতার

A+A-
Reset

তিন ইরানি সামরিক পাইলটকে আটক করে রাখার অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এ অভিযোগকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলার মধ্যে এ ধরনের তথ্য ছড়ানো অত্যন্ত বিস্ময়কর।

রোববার (১৬ আগস্ট) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পাইলটরা কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তারা কোনো সাড়া না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও সংঘাতের প্রচলিত নিয়ম মেনে কাতারের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আল-আনসারি বলেন, পাইলটদের আটকের অভিযোগ সত্য নয়। বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তাদের সন্ধানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহটি ইরানের কাছে হস্তান্তরের জন্য তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দোহা। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে ইরানকে একটি প্রতিনিধিদল কাতারে পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এখনো ইরান ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি বলে জানান কাতারি মুখপাত্র।

এর আগে শনিবার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের সামরিক কমান্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, গত এপ্রিল মাসে কাতারের আকাশসীমায় ভূপাতিত হওয়া দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমানের তিন পাইলটকে দোহায় কয়েক মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে।

ইরান এর আগে জানিয়েছিল, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও পাইলট মাজিদ কাজেমির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ভূপাতিত দুটি সু-২৪ যুদ্ধবিমানের একটির ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে ওই দুটি বিমানের আরও তিন ক্রু সদস্যের পরিণতি এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।

এদিকে গত জুনে কাতারের রাস লাফান গ্যাস কমপ্লেক্সে ইরানের হামলার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাতে দাবি করা হয়েছিল, কাতার তেহরানকে একটি ‘গোপন চুক্তির’ প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই প্রস্তাবে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখার বিনিময়ে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো পুনরায় শুরু হয়নি।

আরাগচি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা