দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতির মধ্যেই পূর্ব সাগরে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটির এটি দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে।
ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্বল্পপাল্লার। এর ধরন ও সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। উৎক্ষেপণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও পূর্ব সাগরে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল উত্তর কোরিয়া। ধারাবাহিক এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপ ও আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি জাপানসহ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিয়োডো বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আকাশপথ ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা অফিস (এনএসও)। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
উৎক্ষেপণের পরপরই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে এনএসও। বৈঠকে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি