Home খেলা নাটকের অবসান, আনচেলত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমার

নাটকের অবসান, আনচেলত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমার

A+A-
Reset

বিশ্বকাপে নেইমার থাকবেন কি থাকবেন না—গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল দুনিয়ার অলিগলিতে এর চেয়ে বড় কোনো ‘সাসপেন্স’ সম্ভবত ছিল না। চোট, অস্ত্রোপচার, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারো গুঞ্জন পেরিয়ে অবশেষে পর্দা নামল সেই নাটকের। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ব্রাজিলের ফিফা বিশ্বকাপ স্কোয়াড। ভক্ত-সমর্থক ও ফুটবলারদের অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়লেন, সেখানে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নামটা তারই ছিল। অবশেষে আনচেলত্তির কণ্ঠে উচ্চারিত হলো সেই নাম—নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপ দিয়েই সেলেসাওদের দলে ফিরতে যাচ্ছেন তিনি। ২০২৩ সালের পর এই প্রথমবার ব্রাজিল দলে জায়গা পেলেন এই মহাতারকা।

হ্যাঁ, নন্দিত এবং কখনো কখনো নিন্দিত এই ফুটবলারকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল। দল ঘোষণার জমকালো অনুষ্ঠানে যখন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নাম উচ্চারণ করলেন আনচেলত্তি, করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। মিলনায়তন জুড়ে বয়ে গেল আনন্দের সুনামি। সংবাদমাধ্যম গ্লোবো’র তথ্যমতে, অনুষ্ঠানটি কাভার করেছেন ১৩টি দেশের সাংবাদিকসহ ৬০০-এর বেশি গণমাধ্যমকর্মী।

বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ডকে দলে ডাকার আগে কোচ আনচেলত্তিও কম পরীক্ষা নেননি। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে (এসিএল) চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ছিলেন জাতীয় দলের রাডারের বাইরে। এরপর ছোট ছোট চোট বারবার তাকে মাঠের বাইরে ছিটকে দিয়েছে। চোট আর ফর্মহীনতার দোলাচলে গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তার ফিটনেস নিয়ে কোচের মনে ছিল একরাশ সংশয়।

সৌদি আরবের চোটজর্জর অধ্যায় চুকিয়ে গত জানুয়ারিতে নেইমার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। আর সেখানেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পান। চেনা আঙিনায় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেই আদায় করে নিলেন আনচেলত্তির ‘ছাড়পত্র’। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ১২৮ ম্যাচে তার গোল ৭৯টি। যদিও সান্তোসের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচেও নেইমারকে কিছুটা চোটের অস্বস্তিতে থাকতে দেখা গেছে, যা নিয়ে ৬৬ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচের মনে এখনো কিছুটা সংশয় আছে।

দল ঘোষণার পর নেইমারকে নেয়ার ব্যাখ্যায় ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আমরা নেইমারকে পুরো বছরজুড়ে মূল্যায়ন করেছি এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার ধারাবাহিক খেলে যাওয়া ও শারীরিক অবস্থার উন্নতির বিষয় পর্যবেক্ষণে ছিল। (বিশ্বকাপে) অন্যদের মতো তারও একই ভূমিকা এবং দায়িত্বশীলতা থাকবে। তবে এটি সত্য যে কিছু পজিশনে আমরা অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দিই।’

দলে থাকলেও নেইমারের একাদশে থাকা যে নিশ্চিত নয়, সেটাও স্পষ্ট জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘এখানে আপনার খেলার, না খেলার, ডাক পাওয়ার কিংবা বেঞ্চে বসে কাটানোরও সম্ভাবনা আছে। তবে তার অভিজ্ঞতা ও দলে তার প্রতি সহানুভূতি ভালো আবহ তৈরি করতে পারে। আমি স্বচ্ছ এবং সৎ থাকতে চাই– যদি নেইমার দলে থাকা প্রাপ্য হন তবে খেলবেন। আমি তারকা চাই না, এমন খেলোয়াড় চাই যারা দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করবে। নেইমার কেবল রিজার্ভ ফুটবলার নন, তিনি ১ মিনিটের জন্য খেললেও দলের মান বাড়াবেন।’

এখনই স্কোয়াড নিয়ে সমালোচনা করতে নিষেধ করে কোচ বলেন, ‘এটা হয়তো নিখুঁত দল হয়নি। কিন্তু এটি হবে সহনশীল, বিনয়ী ও নিঃস্বার্থ। প্রত্যেকের ভিন্ন ভাবনা থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা আমিই নিই। জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তখন বোঝা যাবে আমি ঠিক করেছি নাকি ভুল।’

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

এক নজরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)।

ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)।

মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)।

ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা