ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে প্রায় ৮ লাখ পর্যটক সমাগম; ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা

এইচ এন আলম, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিটে পর্যটননগরী কক্সবাজারে এবারে রেকর্ড পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। ঈদের পর দিন থেকে গতকাল শনিবার ছয়দিন পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে।

এসব পর্যটকের পদভাবে মুখরিত হয়ে আছে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের সব পর্যটনকেন্দ্র। আজ শনিবারও বিপুল পর্যটক থাকবেন। সব মিলে অন্তত আট লাখ পর্যটক কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন।

এতে পর্যটন খাতে অন্তত ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, এত বড় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি ছিলো।
ঈদের ছুটি শেষে ২৪ ও ২৫ মার্চ কর্মদিবস থাকলেও ২৬ মার্চ স্বাধীনতার দিবসের ছুটি ঘিরে টানা ছয়দিন পর্যটকের সমাগম ছিলো।

শনিবারসহ টানা সাত দিন ধরে ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় লেগে আছে সমুদ্রপাড়ে। আগামীকাল থেকে চাপ কমবে, তবে আরো বেশ কিছুদিন পর্যটকের আনাগোনা থাকবে পর্যটনের এই নগরে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। কেউ ঘোড়ায় চড়ে সৈকত ঘুরছেন, কেউ বিচ বাইক কিংবা জেট স্কিতে রাইড নিচ্ছেন, আবার অনেকে কিটকট ছাতা-চেয়ারে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের সৌন্দর্য।
এদিকে পর্যটকের অতিরিক্ত চাপে কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউজের সব কক্ষই পূর্ণ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো কক্ষ খালি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, নির্বাচন ও রমজানের কারণে ভরমৌসুমেও পর্যটকরা কক্সবাজারে বেড়াতে আসতে পারেনি। এই কারণে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় পর্যটকরা ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। এতে হোটেল-মোটেলসহ সব ধরণের পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে থাকা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির শুরু থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রায় আট লাখ পর্যটক কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। এ সময়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২৮ মার্চের (শনিবার) মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং বাণিজ্যের পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
কলাতলী মেরিনড্রাইভ সড়ক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, শহরের সব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে; ৩০ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেলে অগ্রিম বুকিং রয়েছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল শুক্কুর সিআইপি জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন ও রমজান শেষে ঈদ ছুটিকে ঘিরে কক্সবাজারের পর্যটন খাত ও দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি এসেছে। চেম্বারের পর্যবেক্ষণ মতে ৬০০ কোটি টাকার পর্যটন ব্যবসার লেনদেন হয়েছে।

আবাসন, পরিবহন, খাদ্য, ট্যুর সেবা, বিনোদন এবং খুচরা ব্যবসা এতে যুক্ত। এই উচ্চমূখী ব্যবসা এসব খাতকে সক্রিয় করেছে।’
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বীচ কর্মীরা। এছাড়া পানিতে দুর্ঘটনা এড়াতে কাজ করছে সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্যরা।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই বুকিং হয়ে যায়। পর্যটন স্পটগুলো সিসিটিভির আওতায় এনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ মান্নান বলেন, ‘পর্যটক হয়রানি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Related posts

না জানিয়ে আচমকা মন্ত্রীর আগমন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ

গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত

উচ্ছেদ অভিযানে লন্ডভন্ড জৈনাবাজার: কোটি টাকার ক্ষতির মুখে শতাধিক ব্যবসায়ী