এইচ এন আলম, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার জেলা পুলিশের প্রশাসনিক ও আভিযানিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলার ৯টি থানাতেই একযোগে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৯ ডিসেম্বর সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নবনিযুক্ত এই কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান।
তিনি নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি থানাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, অপরাধ দমন এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে বলেন, পুলিশের কাজ কেবল আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জদের সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং সাধারণ মানুষ থানাগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে।
জেলা পুলিশের গণমাধ্যম মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সন্ধ্যায় নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা স্ব-স্ব থানায় উপস্থিত হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন।
যাঁরা নতুন দায়িত্ব পেলেন:
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানায় মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উখিয়া থানায় নুর মোহাম্মদ, চকরিয়া থানায় মোহাম্মদ মনির হোসেন এবং মহেশখালী থানায় মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, রামু থানায় মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, পেকুয়া থানায় মোহাম্মদ খাইরুল আলম, কুতুবদিয়া থানায় মাহবুবুল হক এবং ঈদগাঁও থানায় এটিএম শিফাতুল মজুমদার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
মংগলবারের এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সামীম কবীর এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাসসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রশাসন মনে করছে, ঢেলে সাজানো এই নতুন কাঠামোর ফলে থানা পর্যায়ে কাজের গতি বাড়বে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও দৃশ্যমান হবে।