আগামী ৭ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ দেখা না গেলে আবার আন্দোলন

এইচ এন আলম, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী। দীর্ঘ ৩ ঘন্টা পর প্রশাসনের মধ্যস্থতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অবরোধ প্রত্যাহার করে আন্দোলনকারিরা।

যার ফলে যাত্রীসহ পর্যটকদের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি,আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের দৃশ্যমান কিছু না হলে ফের আন্দোলনের ঘোষনা দেন তারা।

১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় এবং দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মহাসড়ক ব্লকেড তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এবং সকাল ১০টা থেকে চকরিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে মহাসড়কটির একাধিক স্থানে অবরোধ করা হয়। এতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন কক্সবাজারমুখী পর্যটক ও যাত্রীরা।

সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দু’পাশে রশি দিয়ে দেয়া ব্যারিকেড। আর সেতুতে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করে চলে মিছিল ও বিক্ষোভ। স্লোগানে স্লোগানে সড়কের একপাশ থেকে অন্য পাশে চলে মিছিল। শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া বাকিদের যেতে দেয়া হচ্ছে না ।

আন্দোলনকারীদের দাবি- আর কোন তালবাহানা নয়; চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করতে হবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১৫০ কিলোমিটারের মহাসড়কটি দুই লেনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটন নগর কক্সবাজারের কারণে এই সড়কে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় যাত্রীদের। এ ছাড়া সরু মহাসড়ক হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারীরা দৈনিক মিল্লাত প্রতিবেদক কে বলেন, প্রতিদিন নানা কারণেই এই সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া। প্রায়শ শুনতে পায় ২-৩টা সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। আমরা এই মহাসড়কে জীবন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। আমরা যে আবার ঘরে ফিরব এটার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই ছয়লেনের দাবিতে আন্দোলন করছি।”

তারা আরো বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যে পরিমাণ ৩ চাকার গাড়ি রয়েছে; তা বাংলাদেশের আর কোন মহাসড়কে আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এই ৩ চাকার গাড়ির কারণে তো দূর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এগুলো তো মহাসড়ক থেকে দূর করতে পারছে না প্রশাসন। এখন কাকে দোষ দিবেন?” “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি খুবই সরু। কিছু দূর পরপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। লবণবোঝাই ট্রাক আর ৩ চাকার গাড়িগুলোর চলাচল বেশি। যার কারণে এই মহাসড়কে দূর্ঘটনা বেশি ঘটছে।”
দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা হোক এই মহাসড়ক।

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও দাবি পূরণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সরবেন না বলে জানান তারা। পরে দুপুর ১টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর স্বাভাবিক হতে থাকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যানযাহন চলাচল।

তখন অবরোধ আরও কঠোরভাবে পালন করা হবে। আমরা চাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি যেন ৬ লেনে উন্নীতকরণের ব্যবস্থা নেয় সরকার।

চকরিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিত দাস বলেন, অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৩ ঘন্টা পর আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে দ্রুত মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গেল ১১ মাসে এ মহাসড়কে ১৫৫টি দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫০ জন আর আহত হয়েছেন ৩৫১ জন। এসব দূর্ঘটনার পেছনে অপ্রশস্ত সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, বেপরোয়া গতি, লবণাক্ততার কারণে পিচ্ছিল সড়ক, অবৈধ যানবাহন চলাচল ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related posts

না জানিয়ে আচমকা মন্ত্রীর আগমন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ

গাজীপুরে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত

উচ্ছেদ অভিযানে লন্ডভন্ড জৈনাবাজার: কোটি টাকার ক্ষতির মুখে শতাধিক ব্যবসায়ী