জাতি গঠনে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্তরের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে।
প্রতি বছর ৫ অক্টোবর সারাদেশে একযোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে একযোগে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
নীতিমালায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—ইউনেস্কো ঘোষিত প্রতিপাদ্যের আলোকে দিবসটি উদযাপন, সমাজের সব স্তরে শিক্ষকদের ভূমিকা ও অবদান তুলে ধরা এবং গুণী শিক্ষক সম্মাননার মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
নীতিমালার ৫.১ ধারা অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তর ও প্রতিষ্ঠানের মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেওয়া হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা থেকে ৫ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে ৫ জন থাকবেন।
মাধ্যমিক পর্যায়ে সম্মাননা পাবেন ২০ জন। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা থেকে ১০ জন, কারিগরি শিক্ষা থেকে ৫ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে ৫ জন নির্বাচিত হবেন।
কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা থেকে ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষা থেকে ৫ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে ৫ জন থাকবেন।
সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মাননা পাবেন ২০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫ জন নির্বাচিত হবেন।
বিশেষায়িত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ২০ জন শিক্ষক সম্মাননা পাবেন। এর মধ্যে চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন থাকবেন।
তবে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সম্মাননার স্তর ও সংখ্যা পরিবর্তন করতে পারবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, গুণী শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য তিনজন শিক্ষকের প্যানেল তৈরি করে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠাবে।
একইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রতিটি ক্যাটাগরির বিপরীতে তিনজনের প্যানেল প্রস্তুত করবে। পরে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।