ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় প্রেমিক ও তার এক সহযোগীকে দিয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে লাশ গোপন ও সরিয়ে ফেলতেও ওই নারী তাদের সহায়তা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পর একটি খালের পাশে কাঠের বাক্সের ভেতর থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত নারী, তার প্রেমিক ও প্রেমিকের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ওই নারীর ১৬ বছর বয়সী ছেলেকেও আটক করা হয়েছে।
লখনৌ দক্ষিণের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) মোহাম্মদ মুস্তাক জানান, অভিযুক্ত সুফিয়া বানুর সঙ্গে নিহত রামকিশোর বাল্মীকির প্রায় চার বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
পুলিশের ভাষ্য, সুফিয়ার সঙ্গে ৫২ বছর বয়সী মুন্না ওরফে মুচ্ছড়েরও সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি রামকিশোর জানতে পারার পর তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর মধ্যে রামকিশোর তার প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করেন এবং তাকে আর্থিক সহায়তা দিতে থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হন সুফিয়া।
পুলিশের দাবি, এরপর মুন্না ও তার সহযোগী ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সুফিয়া।
১৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে সুফিয়া ওই দুই ব্যক্তিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন এবং আগে থেকেই ঘরের দরজা খোলা রাখেন বলে অভিযোগ। পরে তারা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত রামকিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি।
হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে ঘরের মেঝেতে প্লাস্টার করা হয়। রক্তমাখা ঝাড়ু, রামকিশোরের পোশাক ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও লুকিয়ে রাখা হয়। পরে সুফিয়া তার ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে ডেকে আনেন। এরপর চারজন মিলে রামকিশোরের লাশ খাটের নিচে রাখা একটি কাঠের বাক্সে লুকিয়ে রাখেন বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে ই-রিকশায় করে লাশটি কানাখা এলাকার ভাবাখাদা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি খালের সেতুর নিচে লাশটি ফেলে দেওয়া হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর রামকিশোরের প্রথম স্ত্রী কবিতা দেবীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করে পুলিশ। এরপর তদন্তে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিসিপি মোহাম্মদ মুস্তাক জানান, লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত ই-রিকশাটির সম্ভাব্য চলাচলের পথে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
পরে সুফিয়া বানু, মুন্না ও মোহাম্মদ ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় সুফিয়ার ১৬ বছর বয়সী ছেলেকেও আটক করেছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত ই-রিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি