সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সর্বশেষ সচিব সভা অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ওই সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করলেও আর কোনো সচিব সভা হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর মঙ্গলবার আবার সচিব সভা অনুষ্ঠিত হলো।
সচিব সভা সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এবারের সচিব সভায় চারটি বিষয় আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়। এর মধ্যে ছিল সরকারের কার্যক্রম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ এবং সরকারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয়। এছাড়া জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয় সচিবরা উপস্থাপন করলে সেগুলো নিয়েও আলোচনার সুযোগ রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের সভায় চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব মোকাবিলায় আমদানিনির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও বিস্তৃতি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত সরকারের একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব যাতে দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি না করে, সে জন্য আমদানিনির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ওই সচিব বলেন, সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণ, সরকারের কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা, সরকারি ভবন ও স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন, বেসরকারি খাতকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অংশ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সচিব সভায় আলোচনা হয়েছে।
সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও সচিবদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়, উপকারভোগী নির্বাচনসহ পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।