কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে চলমান এই কর্মসূচির মধ্যে প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জ্যেষ্ঠ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে খাইবার পাখতুনখোয়ার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
সূত্রের দাবি, প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকও ডাকতে পারেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনা করেছে। তবে এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারিক ফজল চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষ বা নির্ণায়ক কোনো বৈঠক ডাকা হয়েছে—এমন তথ্য তিনি নিশ্চিত করেননি।
এদিকে, পিটিআইয়ের লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। তিনি বলেন, এবার এ পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবসান ঘটানো হবে। রাজধানীতে পিটিআইকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো লংমার্চ চালিয়ে যাচ্ছে পিটিআই। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে এতে অংশ নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রাদেশিক সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সুহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার অভিযোগ তুলেছেন প্রদেশটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। ফাঁস হওয়া একটি অডিও বার্তায় তিনি আফ্রিদির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপস করা এবং ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত করার অভিযোগ করেন। আলী আমিনের মুখপাত্র অডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুহাইল আফ্রিদি কোনো মন্তব্য করেননি।