রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়াও একইভাবে হামলা বন্ধ করলেই ইউক্রেন এ ধরনের যুদ্ধবিরতিতে যাবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠককে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন জেলেনস্কি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, উভয় পক্ষই শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়। এ লক্ষ্যে কূটনীতির পথ সুগম করতে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত, যদি মস্কোও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তাপ ও পানি সরবরাহব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করে। তবে ইউক্রেন একতরফাভাবে হামলা বন্ধ করবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একইভাবে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্প ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, এসব হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের দামের ওপরও প্রভাব পড়ছে।
শীত মৌসুমে সম্ভাব্য রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় জেলেনস্কি ট্রাম্পের কাছে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের মজুত থেকে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলে পরবর্তীতে জার্মানির কাছ থেকে ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত সরবরাহ থেকে সমপরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া যেতে পারে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে জার্মানির কাছ থেকে ইউক্রেনের ৬০০টি প্যাট্রিয়ট পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো এ প্রস্তাবে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি।
একই সঙ্গে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনের ওপর নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়া প্রায় ২০০টি ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। অন্যদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ হয়ে যায়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকেও রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি উঠে আসে। বার্নহাম জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এ ধরনের একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পক্ষে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে আরও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা