যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের এসব শর্ত নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আছি।’ একই সঙ্গে আগামী দিনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ইরানের সামরিক বাহিনীও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। প্রথমত, ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, তাদের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া। তৃতীয়ত, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো।’
এরপর হুঁশিয়ারির সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কখন এবং কীভাবে তাদের দেশকে উড়িয়ে দেব, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাদের উচিত নিজেদের আচরণ ঠিক করা।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে বৈশ্বিক আকাশসীমা ইরানের সব এয়ারলাইনসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য কাতারের মাধ্যমে তেহরান সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসিন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্তের মধ্যে মূল দাবি তিনটি।
দাবিগুলো হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। এসব শর্ত পূরণ হলেই ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি থাকার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলো ইরানের ‘নাগালের মধ্যেই’ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না, নাকি সংঘাত আরও বাড়বে—তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।