ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রিতে মার্কিন দুই শীর্ষ ডেমোক্র্যাটের আপত্তি

ইসরায়েলের কাছে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট। সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির র‌্যাঙ্কিং সদস্য জিন শ্যাহিন এবং প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির র‌্যাঙ্কিং সদস্য গ্রেগরি মিকস পৃথকভাবে প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন আটকে দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ৪০ হাজার ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ভারী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪ (MK-84) এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ (BLU-117) বোমা রয়েছে। প্যাকেজে আরও ২০ হাজার আই-২০০০ (I-2000) পেনিট্রেটর ওয়ারহেড অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

সেমাফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিন শ্যাহিন জুলাই থেকেই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের অনুমোদন আটকে রেখেছেন। অস্ত্রগুলো গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এর ব্যবহার বাড়তে পারে কি না—এসব বিষয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যাহিন বলেন, “ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা কী করছে, সিরিয়ার মতো জায়গায় তারা বোমাবর্ষণ করছে এবং এর অর্থ মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কী—তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।”

এর আগে শ্যাহিনসহ একাধিক মার্কিন সিনেটর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির র‌্যাঙ্কিং সদস্য গ্রেগরি মিকস ১৬ সেপ্টেম্বর জানান, তিনি প্রস্তাবিত ৪০ হাজার ভারী বোমার চালান অনুমোদন করবেন না। তার ভাষ্য, এসব অস্ত্র ঘনবসতিপূর্ণ গাজা ও লেবাননে কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে, তা নিয়ে গুরুতর ও অমীমাংসিত উদ্বেগ রয়েছে।

মিকস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো যথেষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারেনি যে ইসরায়েলি সরকার এসব অস্ত্র মার্কিন আইন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ব্যবহার করবে।

তবে মিকসের আপত্তি একাই চুক্তিটি স্থায়ীভাবে বাতিল করে না। মার্কিন কংগ্রেসে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় কমিটির শীর্ষ সদস্যরা আপত্তি জানাতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি প্রয়োজন দেখিয়ে স্বাভাবিক কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

 

প্রস্তাবিত এসব ভারী বোমার চালান নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় ২ হাজার পাউন্ডের বোমার একটি চালান আটকে রেখেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সেই অস্ত্র সরবরাহ পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে হতাহতের সংখ্যা নিয়েও ব্যাপক আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২১ জুন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে ইসরায়েলের জন্য নতুন এই ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজকে ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরেই মানবিক সুরক্ষা, অস্ত্র ব্যবহারের আইনগত বৈধতা এবং বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

সূত্র: সেমাফোর, দ্য হিল, সিএনএন, রয়টার্স, এপি

Related posts

ফ্রান্সে ছুটির পর আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরুদ্ধ ৪১ স্কুল

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন

পশ্চিম ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত ৩ লাখের বেশি মানুষ, সংকট আরও গভীর