Home আজকের মিল্লাত তীব্র গরমে রাজধানীতেও দিনে-রাতে লোডশেডিং

তীব্র গরমে রাজধানীতেও দিনে-রাতে লোডশেডিং

A+A-
Reset

তীব্র গরমে দিনে-রাতে দেশজুড়ে চলছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে এবার জ্বালানি সংকটও তীব্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে না।

প্রতি বছর তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে রাজধানী, শহর ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে এবার রাজধানীতেও নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এসব এলাকায় দিনে-রাতে নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও।

ভুক্তভোগীরা জানান, শিশুদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের কাজ—সবকিছুতেই ব্যাঘাত ঘটছে লোডশেডিংয়ের কারণে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে জেনারেটর চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।

এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘বাচ্চাদের পড়াতে বসানোর সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। কখনও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কখনও সন্ধ্যার পর, আবার কখনও রাত ১০টা-১১টার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ফ্রিজে সমস্যা হয়, মালপত্র নষ্ট হয়ে যায়। আইসক্রিমও নষ্ট হয়। আমরা মধ্যবিত্ত, জেনারেটর চালানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাত ১টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এর ঠিক এক মাস পর, ১০ সেপ্টেম্বর লোডশেডিং হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। ওই দিন একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল।

পিডিবির তথ্য বলছে, চলতি বছর কোনো কোনো দিন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। বিপরীতে এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেল সংকট এবং আদানি পাওয়ারের সরবরাহ কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে লোডশেডিংয়ে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা আরও বেশি। পাশাপাশি দীর্ঘায়িত গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ছে।

এ বিষয়ে আইইইএফএয়ের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ‘আমাদের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া খুবই কঠিন হবে। কারণ, এ বছর বিদ্যুতের চাহিদা ইতোমধ্যে ১৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। গ্রীষ্মকালও আগের তুলনায় দীর্ঘ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেও প্রচণ্ড গরম রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। লোডশেডিং হচ্ছে। এর পাশাপাশি এলএনজির দামের অস্থিরতাসহ নানা বিষয় রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও সিস্টেম লস কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের জন্য বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান পরিকল্পনা নিতে হবে।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বলেন, ‘এই সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে চালু করা সম্ভব, সেগুলোকে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কিন্তু সরকার চুপ করে বসে আছে। শুধু মুখে বলছে, আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করব। ২০৩১ সালের মধ্যে করতে হবে বলা হচ্ছে। তাহলে এখনই কাজ শুরু করা হচ্ছে না কেন?’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে সংকট এড়াতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা