Home আজকের মিল্লাত ব্রিকসের অর্থনৈতিক অবদান জি-৭-এর চেয়ে বেশি: পুতিন

ব্রিকসের অর্থনৈতিক অবদান জি-৭-এর চেয়ে বেশি: পুতিন

A+A-
Reset

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক শক্তি ও অবদানের প্রশংসা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে বিশ্বের ধনী শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর সমালোচনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন বলেন, বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বড় একটি অংশ এখন ব্রিকসের দেশগুলো থেকে আসছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও এসব দেশের অবদান জি-৭-এর তুলনায় বেশি।

পুতিন বলেন, গত পাঁচ বছরে বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্রিকসের দেশগুলো থেকে। বিপরীতে একই সময়ে জি-৭-এর অবদান ছিল ২৯ শতাংশ। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ব্রিকসের দেশগুলোর অবদান অর্ধেকের বেশি, যেখানে জি-৭-এর অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ।

ব্রিকসের অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে বড় জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের কথা উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ ব্রিকসের দেশগুলোতে বসবাস করে। ফলে এসব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার বড়, সক্রিয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এ সময় জি-৭-কে ‘তথাকথিত জি-৭’ হিসেবে উল্লেখ করে পুতিন প্রশ্ন তোলেন, জোটটিকে কেন এখনো বিশ্বের অর্থনীতির প্রধান শক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জি-৭-এর সদস্য দেশগুলো হলো কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পুতিন।

বক্তব্যে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞারও তীব্র সমালোচনা করেন পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর হাজার হাজার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশটির বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

পুতিনের দাবি, বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার মোট সংখ্যার তুলনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

রাশিয়ার তেল আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা অনেক সময় নেতিবাচক রূপ নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এ ধরনের পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহনপথ বন্ধের চেষ্টা এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ দখলের চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।

পুতিন আরও অভিযোগ করেন, যেসব দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বা সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে সেই দেশকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিমা চাপের মধ্যেও রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন পুতিন। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বড় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে।

পুতিনের দাবি, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান পরিবর্তনের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন চলছে। একসময় কিছু পুরোনো অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি থাকলেও এখন ধীরে ধীরে নতুন নতুন অর্থনৈতিক শক্তি সেই জায়গা দখল করছে।

তবে পুরোনো অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সক্ষমতা এখনো অনেক বেশি বলে স্বীকার করেন পুতিন। এসব দেশের উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং উন্নত গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পুতিন বলেন, এটি দুঃখজনক কোনো বিষয় নয়, বরং বাস্তবতা। সময়ের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি ও শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হওয়াই স্বাভাবিক।

বক্তব্যে মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন পুতিন। তার মতে, জনসংখ্যা, অভ্যন্তরীণ বাজার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ব্রিকস এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় শক্তি। একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সোস্যাল মিডিয়াতে আমরা