সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন যেকোনো দিন জারি হতে পারে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন তা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও আন্দোলন চলার মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা বৈষম্য তৈরির চিন্তা নেই। দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
এর আগে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৫৯ ধারার উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিধিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১তম-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ নামে এটি অভিহিত হবে। বিধিমালাটি প্রজ্ঞাপন জারির পর অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তবে শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে এই বিধিমালা প্রযোজ্য হবে না।
খসড়া বিধিমালায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পদে ভাইভার নম্বর ১০ থাকলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে তা ২৫, ৪০ ও ৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১১ ও ১২তম গ্রেড:
এই গ্রেডের মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ভাইভার জন্য ৫০ নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০ হওয়ায় এটি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ হলেও নতুন প্রস্তাবে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
১৩ থেকে ১৬তম গ্রেড:
বর্তমানে এসব পদে লিখিত পরীক্ষায় ৯০ এবং ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৬০ এবং ভাইভার নম্বর ৪০ করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৭ থেকে ২০তম গ্রেড:
বর্তমানে এসব পদে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ এবং ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় লিখিত ও মৌখিক—দুই পরীক্ষাতেই ২৫ নম্বর করে রাখার কথা বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে নম্বর পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি সচিব কমিটির সভায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না। এ জন্য প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে এটি জারি করা হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
খসড়া বিধিমালায় চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সময় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী চলমান থাকলে তা আগের বিধিমালা অনুসারেই নিষ্পত্তি করতে হবে।
অর্থাৎ, নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যেসব নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেগুলোতে নতুন নম্বর কাঠামো প্রযোজ্য হবে না।
এ ছাড়া নতুন বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।